১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আ’লীগ নেতা হত্যা, ১১ বছর পর সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক  | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশক ২৬ ,এপ্রিল ২৫

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হত্যার, ১১ বছর পর পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার।

লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি  মো. শাহ জালালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গত কাল শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে র‌্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গোপন সূত্রের খবর পেয়ে  সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

উল্লেখ্য গত ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সদরের চরশাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয় মহামান্য আদালত। ঘটনার পর ১১ বছর তিনি পলাতক ছিলেন। 

আওয়ামী লীগ নেতার হত্যা মামলায় গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে ছিলেন। জানা যায় গ্রেফতার কৃত জালাল সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের আব্দুল হক বেপারীর ছেলে।

আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলার সূত্র থেকে ও র‌্যাব  মামলা সম্পর্কে জানায়, ২০১৪ সালের ২১ মে রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নানকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

ওই রাতেই বাড়ির পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। হত্যার ঘটনার ঘটনার ৪ দিন পর নিহতের স্ত্রী আঞ্জুম আরা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। 

এই মামলায় ২০১৫ সালের ২ জুন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করে ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শাহেনূর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

এবং এছাড়া ও প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে রায়ের দিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কফিল উদ্দিন ছাড়া বাকিরা পলাতক ছিলেন। এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আবদুর রহমান ও মো. জয়নাল। মামলার রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. জুলফিকার, খোরশেদ আলম, ইয়াসিন আরাফাত রাফি, মো. মুক্তার।

মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা সংস্থা কার্যক্রম চালায়। গোয়েন্দা সত্রের বরাত দিয়ে জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জালালকে গ্রেফতার করা হয়। 

পলাতক গ্রেফতারকৃত আসামি নিজেকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।