
কমলনগর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভূলুয়া নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়নবোড। সোমবার উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ফজুমিয়ারহাট এলাকায় ভূলুয়া নদীতে তৈরি করা বাঁধ ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। এসময় নদীতে থাকা বাঁধ কেটে দেওয়া হয় ও বেল জালগুলো ভেঙে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীর নাম হচ্ছে ভুলুয়া। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭১ কিলোমিটার, প্রস্থ ৮৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে এ নদী। এক সময়ে এ নদীতে উত্তাল ঢেউয়ে প্রবাহমান ছিল পানি। নদীর আশে পাশের লাখো মানুষ কৃষি উৎপাদনসহ নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করতো নদীর পানি। বড় বড় সাম্পান নৌকা ও জাহাজ চলাচল করতো এ নদীতে। বহু জাতের প্রাকৃতিক মাছের সমাহার ছিল এখানে। সে ইতিহাস এখন গল্পের মত হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থান দখল করে নদীর দুপাশে গড়ে তুলেন অসংখ্য মাছের ঘের। আবার মাঝখানে বাঁধ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ করে আসছে কেউ কেউ। নদীর তীর ঘেষে ঘরবাড়ি তুলে দখল করে রাখা হয়। বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলে দূষণ করছে নদীর পানি। এতে করে ভরাট ও পলি জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে শুকিয়ে গেছে নদী।
গেল বর্ষায় পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি,কমলনগর, সদর ও নোয়াখালীর সদর এবং সুবর্ণচর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ দেড় মাসের বেশী পানিবন্ধি হয়ে পড়েন। চলতি বর্ষায় আবারও আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ভূলুয়া নদী দখলমুক্ত করা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত হোসেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মেহদী হোসেন, লক্ষ্মীপুর পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমতিয়াজ মাহমুদ, কমলনগর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম, কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুছাকালিমুল্লাহ,সাধারণ সম্পাদক আমানত উল্যাহ,পাউবোর উপসহকারী তনয় রায় চৌধুরী ও আব্দুর রহিম প্রমুখ।
ইউএনও মোঃ রাহাত উজ জামান বলেন, প্রভাবশালীরা ভূলুয়া নদীটি দখল করে পানির প্রবাহ বন্ধ করে রাখেন৷ নদীটি দখলমুক্ত করতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। পাউবোর ব্যবস্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, প্রভাবশালীদের দেওয়া বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রভাবশালীরা যতবড় শক্তিশালী হউক না কেন? কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।





