১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

রায়পুরে দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ডাকাতিয়া নদী

এন,এ,বি নিউজ ডেস্ক:

লক্ষ্ণীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক সময়ের প্রবহমান  খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী এখন তার চিরাচরিত রুপ নাব্যতা হারিয়ে মৃত সরু খালে পরিণত হয়েছে। রায়পুরের এই ঐতিহাসিক ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন অংশ ভূমি খেকোরা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ,এবং নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দুই সারিতে দোকান খুলে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

 রায়পুরের ঐতিহাসিক ঢাকাতিয়া নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ করে নদীর দুই তীরে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর দুই পাড় ক্রমান্বয়ে গ্রাস করে নিচ্ছে ভূমি খোররা। 

রায়পুরে অতি বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির মূল কারণ হচ্ছে এই ডাকাতিয়া নদী। 

এর একমাত্র কারণ পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদীর তলদেশ, ভরাট হয়ে যাওয়া সহ এবং যাওয়ায় এক সময়ের প্রবাহমান  ডাকাতিয়া নদী এখন মৃত। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সনে এই ডাকাতিয়া নদী দিয়ে রায়পুর থেকে ঢাকা চাঁদপুর লঞ্চ চলাচল করত ব্যবসায়ীরা তাহাদের মালামাল এই ডাকাতিয়া নদী দিয়ে নিয়ে আসতো।

 

আজ সেসব ইতিহাস, এই নদীর দখল হয়ে যাওয়া অংশ উদ্ধার, আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা,অতীবয় জরুরী বলে সচেতন মহল মনে করেন। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডাকাতিয়া নদীর দুই তীরের সীমানা পিলার নেই, নদীর সীমানা চিন্হিত করনে প্রশাসনেরও কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না।

 প্রয়োজনীয় সংস্কারের কোন উদ্যোগ না থাকার কারণে প্রভাবশালীরা নদীর পাড় আস্তে আস্তে ভরাট করে তাদের দখলে নিয়ে যাচ্ছে।  প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক সময় প্রভাবশালীরা নদীর পাড় দখল করে গড়ে তুলছেন দোকানপাট ও ঘরবাড়িসহ নানাবিধ স্থাপনা। 

আর কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে  নির্বিচারে নদীতে ফেলা হচ্ছে নানারকম ময়লা আবর্জনা। পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ থাকায় এসব ময়লা আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশ কলুষিত করছে। এতে দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে দিনের পর দিন জীববৈচিত্র।

একাধিক সূত্র ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়  ডাকাতিয়া নদী বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আন্ত:সীমান্ত নদী ছিল। এই ডাকাতিয়া নদীটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্ণীপুর, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪১ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৬৭ মিটার। এ নদীর গতিপথ সর্পিলাকার।

 ডাকাতিয়া নদী সম্পর্কে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক নদীটির প্রদত্ত পরিচিতি দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের নদী নং- ০৭। জানা যায় এই ডাকাতিয়া নদী এতই তীব্র স্রোতের কারণে  বহু মানুষের নদীপাড়ের বসত বাড়ি ডাকাতিয়া নদী ভেঙ্গে গ্রাস করে নিত।একসময় ডাতিয়া নদীকে ঘিরেই রায়পুরের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার গড়তো। 

কিছু উদ্যোগী তরুণ যুবক ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ‘ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন’ এই নদী দখল ও দূষনমুক্ত করার লক্ষ্যে রায়পুর পৌর শহরে মানব বন্ধন করেছেন। কিন্তু তাদের সেই আন্দোলনের স্বপ্ন তিমিরই রয়ে গেল। 

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ইমরান খান বলেন,,আমি কিছুদিন পূর্বে ‘দখল হয়ে যাওয়া নদীতীর পুনরুদ্ধার ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছি। এবং নদীতেঅবৈধভাবে বাদ দিয়ে মাছ চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছি এবং বর্তমানে তা উন্মুক্ত আছে।  বাঁধ দিয়ে রাখা কয়েকটি বাঁধ কেটে দিয়েছি।