
নিউজ এশিয়া ব্রডকাস্টিং ডেস্ক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে রায়পুর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টি। স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে সেবা নিতে আসার রোগীরা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন । এতে করে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীরা কিছুটা উপকৃত হলেও বর্তমানে অবস্থা খুবই শোচনীয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় প্রতিদিন জরুরী ও বহির্বিভাগে সহস্রাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে চরম ভোগান্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ভাবেই গত ১৭ বছর ধরে ডাক্তার নার্স আয়া হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ সহ জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে অচল অবস্থায় চলছে এই হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবা ।
স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা নূর হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণত হতদরিদ্র ও নিম্ম আয়ের লোকজন চিকিৎসা নিতে আসে বেশি সংখ্যক রোগী এতে করে জনবল সংকটের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েন।
নাজমা আক্তার নামে একজন রোগী এ প্রতিবেদক কে জানান ব্যবস্থাপত্র শেষে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও অস্ত্রোপচার করতে হচ্ছে। এতে করে আর্থিক ভাবে ক্ষতিকর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
এদিকে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপজেলা সরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় -চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট পদ রয়েছে ২০৩টি, এর মধ্যে ৯৭টি পদ শূন্য।
চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৯টি বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন। নার্স বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন, অফিস কর্মকর্তাদের ৮টি পদের ৪টি পদ শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্টর ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫ জন। বর্তমানে একজন নারী ডেন্টাল সার্জন কর্মরত আছেন।
হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্যক শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও শিশু চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। অর্থোপেডিক, চক্ষু, চর্ম ও যৌন রোগের চিকিৎসক আছে একজন। নাক, কান, গলার কোন চিকিৎসক নেই, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। জানা যায় আরো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সৃষ্টি করা হলেও এ নিয়ে অনেক লেখালেখি ওর তো নামলে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত পদায়ন করা হচ্ছে না।
ওয়ার্ড বয় ,আয়া পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ২৪টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১১ জন এই সংকটের কারণে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে । সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের চারটি কোয়ার্টার ভবন থাকলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির পানি পড়ায় সেখানে কোনো চিকিৎসক বসবাস করেন না ।
হাসপাতালের ভুঙ্গুর এই সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বাহারুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়াটা চ্যালেঞ্জের বিষয় তবুও আমি এই দিকে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় খুবই আন্তরিক। তিনি আরো বলেন প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নার্স, আয়া স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছি একাধিকবার।
প্রকাশক: নূরুল আমিন ভূইয়া
nabnews24.com