
নিজস্ব প্রতিবেদক:- এন,এ, বি নিউজ ২৪
লক্ষ্মীপুরে বাবা সহ দুই মেয়েকে কুপিয়ে নির্মমভাবে জখম।
জানা যায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষ রা। রায়পুর উপজেলার চর মোহড়া ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামের ঠাওদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
উক্ত মারামারির ঘটনায় সোমবার (২১ এপ্রিল) রাতে আহত আমেনা আক্তার বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা ধায়ের করেছেন। তথ্যসূত্র মতে বৃহস্পতিবার তারা হামলার শিকার হন।
হামলায় আহতরা হলেন- আবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ, তার মেয়ে আমেনা আক্তার ও কলেজছাত্রী তানজিনা আক্তার। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- তছলিম উদ্দিন ও তার ছেলে সুমন, মাসুম, মারুফ এবং ঝুমুর, কাঞ্চন, আরজু, শিউলি আক্তার ও মিম। তারা একই বাড়ির বাসিন্দা।
রায়পুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়,অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা আব্দুল মজিদের সঙ্গে জমি নিয়ে তার বড় ভাই তছলিম উদ্দিনের পরিবারের বিরোধ অনেকদিন ধরে চলে আসছিল। এরই জের ধরে প্রতিনিয়তই মজিদের পরিবারের ওপর হামলা-নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তাদের জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তাদের সদিচ্ছার কারণে কোনো সুরাহা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ তছলিমসহ অভিযুক্তরা দলবেঁধে মজিদ ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এতে করে মেয়েদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাদের রক্তাক্ত জখম করে।
হামলায় মজিদের বাঁ হাত, বাঁ পা এবং মুখে রক্তাক্ত জখম হয়। বাধা দিতে ও বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মেয়ে আমেনা ও তানজিনাও মারাত্মক জখম হন। এই ঘটনায় নারীদের শ্লীলতাহানি করারও অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজন আহতদের প্রথমে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে বর্তমানে তাদের লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে ।
জনসংক্রান্ত ও হামলার ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে মামলার বাদী আমেনা আক্তার বলেন, আমাদের ওপর একের পর এক অত্যাচার-নির্যাতন তারা প্রতিদিনই করে আসছে। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আমাদের জখম করে। আমরা মামলা করার উক্ত আসামিরা আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এবং মামলা করলে আমাদের নাকি হত্যা করবে। আমাদের কাছে হামলার তথ্য প্রমাণ আছে। আমরা বর্তমানে অসহায়ত্ব জীবন যাপন করছি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
উক্তা হামলার ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে মামলার সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।





